প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৪৪:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে তুষারধসে নিহত খ্যাতনামা ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, পাহাড়টির প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। একই এলাকায় আরও তিনটি মরদেহ দেখা গেলেও সেগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পাকিস্তানের আল্পাইন ক্লাব রোববার এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহগুলো একটি জাপানি বেস ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজার মৃত্যুর খবর শনিবার নিশ্চিত করে তার প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেডিশনস। সংস্থাটি জানায়, ব্রড পিকে তুষারধসে পুরজাসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরজার অভিযানে অংশ নেওয়া আরও তিন পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইস, ওমানের নাধিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হার্থি এবং নেপালের পুর বাহাদুর গুরুং।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক শোকবার্তায় বলেন, পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় বিশ্বরেকর্ডধারী নির্মল পুরজাসহ ছয় নেপালি ও চার বিদেশি পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু দেশকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
তিনি বলেন, ‘তাদের সাহস, নিষ্ঠা এবং অবদান চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
পুরজার বড় ভাই কমল পুরজা এক বিবৃতিতে লেখেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমার প্রিয় ছোট ভাই নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজা এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য পর্বতারোহীরা আর আমাদের মাঝে নেই। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা তোমাকে নিয়ে অসীম গর্বিত।’
ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়ামও শোক প্রকাশ করে বলেন, নির্মল পুরজা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহীতে পরিণত হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘নির্মল পুরজা এবং তার সঙ্গে থাকা পর্বতারোহীদের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বহু বছর ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার অসাধারণ পর্বতারোহণের কীর্তি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।’
শেষ অভিযানের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল
গত বৃহস্পতিবার ৮ হাজার ৪৭ মিটার উঁচু ব্রড পিকে তুষারধসের পর থেকেই নির্মল পুরজার নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক পর্বতারোহী দলটির সদস্যদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, শুরুতে তার পরিকল্পনা ছিল শুধু গ্যাশারব্রুম-২ (জি-২) শৃঙ্গে আরোহণের। তবে পরে তিনি ব্রড পিকেও ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেষ বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ব্রড পিক, আমি তোমার কাছে নিরাপদে ওঠা-নামা ছাড়া আর কিছু চাই না। কোনো পর্বতকেই আমি কখনো হালকাভাবে নিই না।’
পর্বতারোহীদের কাছে ব্রড পিক বিশ্বের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৭ সালে প্রথম সফলভাবে এই শৃঙ্গে আরোহণ করা হয়। এরপর বহু অভিযাত্রী শীর্ষে পৌঁছালেও কয়েক ডজন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৩ সাল ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি, যখন অন্তত ছয়জন পর্বতারোহী সেখানে নিহত হন।





















