নাহিদ মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৬ মার্চ ২০২৬ , ৭:২৪:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
“আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প”-এর আওতায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ৩৩ শতাংশ জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাপসিকাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন আন্দিউড়া ইউনিয়নের উত্তর হরিশ্যামা গ্রামের কৃষক মো. মাসুম ভুইঁয়া, যিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী সদস্য।
উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে এ প্রদর্শনীতে জমি প্রস্তুতি, উন্নতমানের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং সমন্বিত বালাই দমন (আইপিএম) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস মানসম্মত সার, স্বাস্থ্যকর চারা ও অনুমোদিত বালাইনাশক সরবরাহ করেছে, যা চাষের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জানা গেছে, ৩৩ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে আনুমানিক ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০–৫০ হাজার টাকা, যা জমি প্রস্তুতি, চারা, সার, শ্রম, সেচ, খুঁটি স্থাপন ও রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। সঠিক পরিচর্যার ফলে সম্ভাব্য ফলন ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২–২.৫ লাখ টাকা নিট লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যাপসিকাম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক। কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সুবিধাভোগী কৃষক মো. মাসুম ভুইঁয়া বলেন, “সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া সফলতা সম্ভব হতো না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নির্মল ভৌমিকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আমরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নির্মল ভৌমিক জানান, জমি নির্বাচন, মাটির গুণাগুণ মূল্যায়ন, সঠিক জাত নির্বাচন, চারা রোপণের দূরত্ব নির্ধারণ, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারে তিনি কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফেরোমন ট্র্যাপ স্থাপন ও আক্রান্ত গাছ অপসারণের মাধ্যমে ফসলকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছেন।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, “সঠিক আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অল্প জমিতেও অধিক ফলন ও লাভ অর্জন সম্ভব।” উপজেলা কৃষি অফিসের কার্যকর তদারকি ও মাঠপর্যায়ের কারিগরি সহায়তায় এই ক্যাপসিকাম প্রদর্শনী সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের একটি সফল ও টেকসই মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




















