নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ১৬ মে ২০২৬ , ৯:৩৭:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
ভালো ফলনের আশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে প্যাকেটজাত ব্রি-৮৮ ধানের বীজ কিনে জমিতে চাষ করেছিলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরপাড়ের কৃষক গোলাপ মিয়া। কিন্তু প্রত্যাশার পরিবর্তে তার জমিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একই জমিতে তিন থেকে চার ধরনের ধানগাছ জন্ম নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
কৃষক গোলাপ মিয়ার অভিযোগ, তার জমির মাত্র ২০ শতাংশে ব্রি-৮৮ জাতের ধান হয়েছে, বাকি অংশে বিভিন্ন ধরনের ধানগাছ জন্মেছে। কোনো গাছ উঁচু, কোনোটি খাটো, আবার কিছু গাছে আগেভাগেই ধান পেকে গেলেও অন্য গাছে তখনও শিষ বের হওয়ার পর্যায় চলছিল।
তিনি বলেন, “ভেজাল বীজের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারিনি। পরে বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যায়। দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে শ্রমিক এনে ধান কেটে আধাপচা অবস্থায় ঘরে তুলেছি। মান ভালো না থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।”
এ ঘটনায় তিনি সম্প্রতি বিএডিসির জেলা বীজ শাখায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের গলগলি মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক অজয় কান্তি সরকার। তিনি জানান, বিএডিসির ব্রি-৮৮ বীজ দিয়ে ১৩ একর জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু বীজে ভেজাল থাকায় জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান উৎপাদিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “যে ধান আগে পেকেছে তা ঝরে গেছে, আর বাকি ধান পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
বারহাট্টা উপজেলার আশিয়ল গ্রামের কৃষক ইলিয়াস মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, ব্রি-৮৮ সাধারণত উঁচু জাতের ধান হওয়ায় জলাবদ্ধতায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু মিশ্র জাতের খাটো ধানগাছ হওয়ায় অল্প পানিতেই ডুবে গেছে।
এদিকে বিভিন্ন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষয়টির তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে।
ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলায় ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন।
এ বিষয়ে বিএডিসির জেলা বীজ শাখার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই এ ধরনের সমস্যা পাওয়া গেছে। আমরা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করেছি। মূলত চুয়াডাঙ্গা থেকে সরবরাহ করা কিছু বীজে এ সমস্যা দেখা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















