রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৩২:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের ১৩ কিলোমিটার ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ থেকে প্রায় ৬ হাজার নাটবল্টু, ২ হাজার ফিসপ্লেট (এমএস প্লেট) ও ৪ হাজার ফিসবোল্ট চুরি হয়েছে। শুধুমাত্র গত সোমবার ও মঙ্গলবারেই প্রায় ৬৩ লাখ টাকার বেশি রেলসম্পদ চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, রেললাইনের বিভিন্ন অংশে ফিসপ্লেট, নাটবল্টু, ফিসবোল্ট ও স্লিপারের কোনো অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা রেলপথে দুর্বৃত্তরা দিনদুপুরে এসব মালামাল খুলে নিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে রেলপথটির বিভিন্ন অংশে লাইন চুরি হচ্ছে। মৌলভীডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার হাবিব বলেন, “রেলপথটি সচল থাকলে আজ এসব চুরির ঘটনা ঘটত না। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচত।”
মধ্যপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যে যেভাবে পারছে, চুরি করছে রেলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। আগেও কয়েক কিলোমিটার লাইন কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।”
খনি ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনির অর্থায়নে ৭১৩ কোটি টাকায় ভবানীপুর থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ শুরু হয়, যা ২০০৯ সালে শেষ হয়। কিন্তু ২০১১ সালে রেলপথের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্লিপার চুরি শুরু হয়। এরপর পাথর পরিবহন বন্ধ হয়ে যায় এবং রেল ও খনি কর্তৃপক্ষ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) আবু জাফর মো. রাকিব হাসান বলেন, “রেলওয়ে মহাপরিচালক সম্প্রতি রেলপথটি পরিদর্শন করেছেন। সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনে চুরি ঠেকাতে ওয়েম্যান নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে।”
অন্যদিকে রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (পিবউআই) মো. শেখ আল আমিন বলেন, “নিজস্ব জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিরাতে ১৩-১৪ জন ওয়েম্যান পাহারায় থাকেন। তবুও দিনদুপুরে প্রায় ৬ হাজার নাটবল্টু চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।”
ওয়েম্যানরা জানান, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ভ্রমণ-ভাতার (টিএ) বিল পাচ্ছেন না। তাছাড়া স্থানীয় হুমকি ও ইটপাটকেল ছোড়ার মাঝেও প্রতিরাতে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, “রাতের পাশাপাশি দিনে পাহারার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পার্বতীপুর রেল থানার ওসি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন বলেন, “রেলপথ সচল না থাকায় সড়কপথে পাথর পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। রেলপথ সচল হলে খরচ কমে আসবে।”
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই) মো. আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, “ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।”





















