প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ২:২২:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার বা জুমার দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একজন মুসলমানের জন্য এটি শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত, দোয়া, জিকির এবং নিজের আমল-আখলাক পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমার দিনটিকে কিছু বিশেষ আমলের মাধ্যমে সাজিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
সকালটা কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে শুরু করুন
জুমার দিনের শুরুতেই কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্য রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে সূরা কাহফ পাঠের ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা হয়। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও সম্ভব হলে এই আমলের জন্য সময় বের করা ভালো।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কাজের বিরতিতে, যাতায়াতের সময় কিংবা অবসর মুহূর্তে সহজেই এই আমল করা যায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে গুরুত্ব দিন
জুমার নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গোসল করা, শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। দাঁত পরিষ্কার করা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও যত্নশীল হওয়া উচিত। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এসব কাজ জুমার দিনের প্রতি সম্মান ও প্রস্তুতিরও প্রকাশ।
সময় হাতে নিয়ে মসজিদে পৌঁছান
সম্ভব হলে জুমার নামাজের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেভাগেই মসজিদে যাওয়া ভালো। আগে পৌঁছালে নামাজের আগে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত কিংবা জিকির করার সুযোগ পাওয়া যায়। খুতবা শুরু হলে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
দোয়ার জন্য বিশেষ সময় রাখুন
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে হাদিসে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক আলেম আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়কে সেই সময়ের সম্ভাব্য একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ সময়টিতে নিজের প্রয়োজন, পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা যেতে পারে।
নিজের আমল নিয়ে ভাবুন
জুমার দিনকে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মশুদ্ধির দিন হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। গত সপ্তাহে নিজের কী ভুল হয়েছে, কোন অভ্যাসগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন এবং কোন গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা দরকার এসব নিয়ে কিছুটা সময় চিন্তা করা যেতে পারে।
দিনের শেষে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে তাঁর আনুগত্য করার সংকল্প করা উচিত। এভাবে প্রতিটি জুমা একজন মুমিনের জীবনে নতুনভাবে নিজেকে সংশোধন ও আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।









