খেলাধুলা

ডারউইন টেস্টে পরপর তিন উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

  প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ১:১৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎ করেই ব্যাটিং ধাক্কা খেয়েছে। তিনশ রানের মাইলফলক পার করার পর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারীরা। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের দ্রুত বিদায়ে ৮৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১১৮ রানে।

দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পর জস হ্যাজলউডের সুইংয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া একটি বলে ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন স্টিভ স্মিথ। শান্তর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। তার বিদায়ে ২৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। ৮৩তম ওভারের প্রথম বলে তিন রান নিয়ে বাংলাদেশকে তিনশর ঘরে পৌঁছে দেন মুশফিক। তবে পরের ওভারেই ভাঙে জুটি।

মিচেল স্টার্কের ঘণ্টায় ১৪৩ কিলোমিটার গতির বল শরীর থেকে দূরে ছিল লিটনের। সেটি ড্রাইভ করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১২ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন। ৩০৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর প্যাট কামিন্সের বলে ফিরে যান মুশফিকও। অফ স্টাম্পের বাইরে আউটসুইং করা বলটি খেলবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন মুশফিক।

তবে দিনের বড় গল্প এখনো বাংলাদেশের দাপটই। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে সফরকারীরা। তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বড় লিডের ভিত গড়ে বাংলাদেশ।

তানজিদ গড়েছেন ইতিহাস। ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। নাথান লায়নের বলে লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস।

তানজিদের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৩১ রান। এর আগে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তানজিদের জুটি থেকে আসে ৯৩ রান। তাদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রান টপকে যায় এবং টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার কীর্তি গড়ে।

তানজিদের আগে মুমিনুল হক ৪৯ রান করে আউট হন। জশ হ্যাজলউডের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। মুমিনুল ও তানজিদের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১০২ রান।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপটের আগে অবশ্য বল হাতে অসাধারণ ছিলেন দলের পেসাররা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।

ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন ও এবাদত নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। চোট কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর লাল বলের ক্রিকেটে ফেরা এবাদতের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া।

বাংলাদেশি পেসাররা অতিরিক্ত গতি নয়, বরং নিখুঁত লাইন-লেন্থ, সিম মুভমেন্ট ও বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন। হাসান ও তাসকিন শুরু থেকেই অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট-অফ-লেন্থে ধারাবাহিকভাবে বল করে যান। অন্যদিকে এবাদতও পিচের বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭১ রান করেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি দলের অন্য ব্যাটাররা। স্মিথ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানও করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশর নিচে অলআউট করার পর বাংলাদেশ ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু করে। টানা কয়েকটি সেশন আধিপত্য ধরে রেখে সফরকারীরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল। তবে শান্ত, লিটন ও মুশফিকের দ্রুত বিদায়ে এখন নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ক্রিজে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের হাতে এখনো ১১৮ রানের লিড। ফলে শেষ চার উইকেটের ব্যাটিং পারফরম্যান্সই ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত করবে নাকি অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরও খবর

Sponsered content