আন্তর্জাতিক

জাপানে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে নিহত ৬

  প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ৩:০০:০২ প্রিন্ট সংস্করণ

জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা অঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। টোকিওর কাছের এই অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগের কারণে ২০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাতভর আটকা পড়েছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ মাত্রার ‘লেভেল ফাইভ’ জরুরি সতর্কতা হিসেবে ঘোষণা করে। শুক্রবার সকালে সতর্কতার মাত্রা লেভেল ফোরে নামিয়ে আনা হলেও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে চিবা অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার রেকর্ডের বিচারে ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবার কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্ট মাসে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এটি প্রায় তিন গুণ। দেশটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ মাত্রার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বলেও জানানো হয়েছে।

দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও আসাহি শিমবুন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন, যিনি প্লাবিত সড়কে পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে মারা যান। আরও দুজন রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ে পরে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

চিবা অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। গভর্নর কুমাগাই বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভারী বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ ছিল। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে নারিতা বিমানবন্দর জানিয়েছে, শুক্রবার সব নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে, তবে বড় ধরনের বাতিলের আশঙ্কা নেই।

বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীরা আটকা পড়েন। প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটিয়েছেন।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক বাসিন্দা এনএইচকে-কে বলেন, হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ না থাকায় আগামী কয়েক দিনে তার ব্যবসা চালু করা যাবে কি না, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে জাপানের বাইরেও। ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় বন্যার আশঙ্কায় স্কুল ও সরকারি কার্যালয় আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীন পরপর কয়েকটি ঝড়ের কবলে পড়েছে। ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের ঝড়গুলো একই সময়ে অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশে তাণ্ডব চালিয়েছে।

ডলফিনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এতে কয়েক হাজার স্থাপনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিমান চলাচল বাতিলের ঘটনা ঘটে।

এর আগে সপ্তাহান্তে ডলফিন চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে ডলফিনকে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারাবাহিক ঝড় ও অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত এ অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাপানের কর্তৃপক্ষও বৃষ্টি কমে যাওয়ার পরও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content