বিনোদন

ঐশ্বরিয়ার ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন যিনি

  প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ২:৫২:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বলিউডে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের পরিচয় শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবেও। বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর চলচ্চিত্রে পা রেখে অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর সময়েই এক পরিচালক চেয়েছিলেন, পর্দায় ঐশ্বরিয়ার পরিচিত গ্ল্যামারাস রূপের বদলে দর্শক যেন একজন সাধারণ ও স্বাভাবিক তরুণীকে দেখতে পান। সেই পরিচালক ছিলেন সুভাষ ঘাই।

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তাল’ সিনেমায় ঐশ্বরিয়াকে মানসী চরিত্রে কাস্ট করেছিলেন সুভাষ ঘাই। সিনেমাটির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি ছবিটি নিয়ে পুরোনো স্মৃতি শেয়ার করেছেন নির্মাতা। সেখানেই উঠে এসেছে ঐশ্বরিয়াকে চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করার সেই বিশেষ পরিকল্পনার কথা।

‘তাল’এ মানসী ছিল ছোট শহর থেকে উঠে আসা এক তরুণী। গান ও নাচের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং নিজের প্রতিভাকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নই ছিল চরিত্রটির মূল ভিত্তি। ফলে চরিত্রটির জন্য প্রয়োজন ছিল স্বাভাবিকতা, সরলতা ও আবেগ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়।

তবে তখন ঐশ্বরিয়া ইতোমধ্যেই বিশ্বসুন্দরী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। দর্শকের চোখে তার সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই প্রচলিত ইমেজের বিপরীত একটি চরিত্রে তাকে হাজির করাই ছিল সুভাষ ঘাইয়ের অন্যতম লক্ষ্য।

পরিচালক চেয়েছিলেন, ‘তাল’এর প্রথম অংশে দর্শক যেন ঐশ্বরিয়াকে বিশ্বসুন্দরী হিসেবে নয়, বরং মানসী হিসেবেই গ্রহণ করেন। এ কারণে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন তিনি।

সুভাষ ঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঐশ্বরিয়াকে বলেছিলেন যে সিনেমাটির প্রয়োজনে তার প্রচলিত ইমেজ ভেঙে ফেলতে হবে এবং শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা তাকে কোনো মেকআপ ছাড়াই ক্যামেরার সামনে থাকতে হবে।

পরিচালকের এই সিদ্ধান্তে ঐশ্বরিয়া কোনো আপত্তি করেননি। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের পরিচিত লুক ও গ্ল্যামার থেকে সরে যেতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন। বরং সুভাষ ঘাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার ব্যাপারে অভিনেত্রী পুরোপুরি আস্থা রেখেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ‘তাল’-এর মানসী চরিত্রকে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। সিনেমার গল্পের পাশাপাশি এর সংগীতও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

‘তাল’ ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা হয়ে ওঠে। কারণ এই ছবিতে তার সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনয়ক্ষমতার দিকটিও জোরালোভাবে সামনে আসে। সুভাষ ঘাইয়ের নেওয়া ঝুঁকি যে সফল হয়েছিল, সিনেমাটির জনপ্রিয়তাই তার প্রমাণ।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর আবারও ‘তাল’কে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সুভাষ ঘাই জানিয়েছেন, ‘তাল ২’-এর চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে নতুন সিনেমাতেও তিনি প্রথম পর্বের মতো তারকার জনপ্রিয়তার চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

পরিচালকের মতে, প্রথম ‘তাল’এ তারকাদের পরিচিত ইমেজকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করা হয়নি; বরং চরিত্রের মধ্য দিয়েই অভিনয়শিল্পীদের তুলে ধরা হয়েছিল। ‘তাল ২’এও একই পদ্ধতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ফলে সিনেমাটির ২৭ বছর পূর্তিতে ‘তাল’এর সাফল্যের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঐশ্বরিয়ার সেই সময়ের গল্প। যে ছবিতে নিজের সবচেয়ে পরিচিত পরিচয় সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের আড়াল সরিয়ে একজন সাধারণ তরুণীর চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন তিনি।

আরও খবর

Sponsered content