বিনোদন

বাংলাদেশ বেতারে আর কতটা বেতন বাড়লে দায়িত্বশীল হবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা

  প্রতিনিধি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:০৬:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি প্রচার মাধ্যম হিসেবে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিত বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় তালিকাভুক্ত কতিপয় উপস্থাপক- উপস্থাপিকাদের কান্ডজ্ঞানহীন আচরণের কারণে বিব্রত হতে হচ্ছে দায়িত্বশীল সচেতন সহকর্মীদের। মানসিক ভারসাম্যহীন এমন সব অস্বাভাবিক আচরণের জন্য বেতার কর্তৃপক্ষ দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন অস্বাভাবিক আচরণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা জানান, বাংলাদেশ বেতারে হোম সার্ভিসের স্টুডিওগুলোতে প্রায় সময় খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, নষ্ট কলম, অপ্রয়োজনীয় কাগজ, পলিথিন, ব্যবহার করা টিস্যু, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের নোংরা জিনিস যত্রতত্র পড়ে থাকে। এমন বাস্তবতা অন্যান্য সেকশনের স্টুডিওর মধ্যেও পরিলক্ষিত হয় মাঝে মাঝে। তবে কতিপয় মানসিক ভারসাম্যহীন এ্যানাউন্সারের কাছে হোম সার্ভিসের স্টুডিওগুলো কখনো ডাইনিং কখনো কিচেন কিংবা কোন কোন সময় ডাস্টবিন বলে মনে হয় হয়তো! আর যারা এসব কাজ করছে তাদের পারিবারিক শিক্ষা এবং নৈতিকতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। আবার দেখা যায়, অনেকে স্টুডিওকে মিনি নামায ঘর বানিয়ে ফেলেন অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে। এতে করে ভিন্ন ধর্মের লোকদের যাতায়াত করা কিংবা স্টুডিওতে ঐ সময়ে অবস্থানকারীদের ভীষন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বেতারে অনেক জায়গা থাকা স্বত্তেও স্টুডিওকেই নামাযের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা বলে মনে করেন তারা।

আবার দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগে কিংবা শিফটের শুরুতে অনেকেই আসেন না। এভাবে না আসতে আসতে এটা এখন কারো কারো নিয়মিত অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। শিফট অনুযায়ী অনুষ্ঠান শুরুর আধা ঘন্টা পরে কিংবা কখনো কখনো এক ঘন্টা পার হয়ে গেলেও দেখা মেলেনা কারো কারো। আবার অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ না করেই চলে যান অনেকে। আবার কেউ কেউ ব্যাপক ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে চলে যাবার তাগিদ দিতে থাকেন একটু পর পর।

ফাঁকিবাজদের নিয়মিত এমন আচরণের কারনে ভীষন ভোগান্তিতে পড়তে হয় দায়িত্বশীল সচেতন অনুষ্ঠান উপস্থাপক- উপস্থাপিকাদের। আবার উপস্থাপনা চলাকালীন রেকর্ডিংয়ের জন্য চলে যান কেউ কেউ। একবার গেলে আর সহজে ফেরার কোন খবর থাকে না বলে- অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। তাছাড়া কিছু ফাঁকিবাজ আছে যারা ইচ্ছে করেই উপস্থাপনার দিন এবং ঐ সময়ে রেকর্ডিংয়ের টাইম নির্ধারন করে রাখে। এতে করে একই সময়ে একই দিনে ডাবল পেমেন্ট নিয়ে খুশী মনে বাড়ী ফেরেন তারা। অথচ তার বা তাদের এমন ফাঁকিবাজির কারনে অন্য সহকর্মীরা যে কতটা সাফার করে সেই বিষয়ে কোন অপরাধবোধ কাজ করে না সুবিধাবাদী ঐসব এ্যানাউন্সারদের মাঝে।

উল্লেখিত বিষয়গুলি দেখভাল করার দায়িত্ব অধিবেশন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে একদম সংশ্লিষ্ট সেকশনের পরিচালকের। কিন্তু তাদের সকলের বেতন বাড়লেও বাড়েনি দায়িত্ববোধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেতার সংশ্লিষ্ট অনেকে জানান, যার লবিং যত ভালো বেতারে সে ততবেশি সুবিধাভোগী। এক্ষেত্রে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলের কতিপয় সুবিধাভোগীরা তালিকার শুরুতেই আছেন বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগী কয়েকজন সিনিয়র উপস্থাপক-উপস্থাপিকা জানান, বেতারে বাজেট সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিফট কমানো হয়েছে, প্রতি পালায় এ্যানাউন্সসারদের সংখ্যা কমানো হয়েছে পাশাপাশি পূর্বের চেয়ে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে এ্যানাউন্সারদের উপর দিয়ে স্টীম রোলার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। এমন বাস্তবতায় তারা বেশ আক্ষেপের সুরে বলেন, কোন বিশেষ কারনে একজন বা দুইজন এ্যানাউন্সার নির্দিষ্ট পালায় দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানালে কিংবা না আসতে পারলে তার বা তাদের পরিবর্তে বিকল্প কাউকে নেয়া হয় না। অবশিষ্ট ২/১ জন দিয়েই পুরো পালার অনুষ্ঠান চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়াটাও অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে কোন কোন সময়। কেননা বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে, স্টুডিওতে থাকবে কে আর বাথরুমে যাবে কে? বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই বিব্রতকর বলে আক্ষেপ করেছেন অনেকে। তার মধ্যে প্রতিটি গানে গানে এ্যানাউন্সমেন্ট দেয়ার নিয়ম করায় টানা ৬/৭ ঘন্টা ওয়াশরুমে যেতে না পারাটা যেন অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মতো হয়ে গেছে এখন।

বেতারে এ্যানাউন্সার হিসেবে নতুন তালিকাভক্তু হওয়া অনেকে আছে যারা তাদের নির্দিষ্ট দিনে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালনে আসে না ঠিকমতো ঠিক সময়ে। তাদের জায়গায় আবার কাউকে নেয়াও হয় না। আবার দেরী করে আসার কারনে তাদের কোন জবাবদিহিও করতে হয় না। এতে করে যারা বা যে কজন ঐ পালায় থাকে তাদের উপর প্রেশার পড়ে ভীষন। কিন্তু নিয়মিত/অনিয়মিতভাবে ডিউটিতে না আসা ব্যক্তিদের প্রতি মাসেই ডিউটি চার্টে নাম দিয়ে রাখা হয় অদৃশ্য কারনে! কি কারনে এমনটা হয় বা হচ্ছে তা জানতে হলে জ্ঞানার্জনের জন্য যেতে হবে সূদুর চীনে কিংবা দূরে কোন নির্জন পাহাড় পর্বতে। এসব নিয়ে অনেকের মনে এখন একটাই প্রশ্ন- আর কতটা বেতন বাড়লে দায়িত্বশীল হবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা!

আরও খবর

Sponsered content