মহসিন মোল্যা, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৩৬:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় কুমার নদে একটি মাত্র ব্রিজের অভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তত ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শতবর্ষী খেয়া ঘাট দিয়ে নদ পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও আজও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
কুমার নদের উত্তর পাশের বড়তলা, গয়েশপুর, আলফাপুর, সাবিনগর, জোকা, চন্ডিখালীসহ অন্তত ৭টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন কৃষিপণ্য বিপণন, চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে নদের দক্ষিণ পাশের হাট শ্রীকোল গ্রামে যেতে হয়। অন্যদিকে হাট শ্রীকোল, সরইনগর, খোর্দ্দরহুয়া, দরিবিলা, দাইরপোল, রামনগর ও বারইপাড়াসহ ১৩টি গ্রামের মানুষকে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রিসহ নানা প্রয়োজনে নদের অপর পাড়ে যাতায়াত করতে হয়।
প্রয়োজনের তাগিদে এলাকাবাসী ছোট নৌকায় কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিলেও বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে বিপদ আরও বাড়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি ব্রিজ নির্মাণের। তাদের মতে, ব্রিজটি নির্মিত হলে শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তবে আশার কথা, গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার কুমার নদের প্রস্তাবিত ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন এলজিইডির সদর দপ্তরের প্রকল্প পরিচালক এবাদত আলী।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম ওয়াহিদুজ্জামান, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই মণ্ডল, শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ মোল্যা, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. আসাদুজ্জামান খাজা বিশ্বাস, শ্রীকোল বাজার কমিটির সভাপতি রেজাউল কবির, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসমিন বিশ্বাসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও নারী-পুরুষ উপস্থিত হয়ে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
গয়েশপুর ও বড়তলা গ্রামের শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম ও জুঁই খাতুন বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের প্রতিদিন কুমার নদ পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে ভয় আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় সময়মতো স্কুলে যেতে পারি না। দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ প্রয়োজন।”
স্থানীয় কৃষক হোসেন আলী জানান, কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় নৌকায় পারাপার অনেক সময় সম্ভব হয় না। তখন শ্রীপুর কিংবা হাট ফাজিলপুর ব্রিজ ঘুরে যেতে হয়, এতে খরচ ও সময় দুটোই বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা।
শ্রীকোল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসমিন বিশ্বাস বলেন, “এখানে একটি ব্রিজ হলে শ্রীকোল বাজারের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। এতে নদের দুই পাড়ের ২০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।”
শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ মোল্যা বলেন, “এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ প্রয়োজন। ব্রিজ নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে। এলজিইডি আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, আমরা আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ হবে।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী জানান, কুমার নদের ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে।




















