সারাদেশ

ফেনীতে ‘তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা’ ঘিরে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

  জাহিদ হাসান চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৪৯:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ


ফেনীতে সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলা শহীদ জহির রায়হান হলের ফাঁকা জায়গায় আয়োজিত ‘তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা’ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বুধবার ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘন ঘন এ ধরনের মেলার আয়োজন শহরের স্থায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। মেলা বন্ধের দাবিতে গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।

আবেদনপত্রে বলা হয়, ফেনীতে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এসব মেলায় মানহীন পণ্য বিক্রি হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্টল নিতে পারেন না। অধিকাংশ স্টলই বহিরাগত ব্যবসায়ীদের দখলে থাকে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, নাম ‘তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা’ হলেও স্টলগুলোতে এ ধরনের পণ্যের উপস্থিতি খুবই কম। অধিকাংশ স্টলে প্লাস্টিক সামগ্রী, কসমেটিকস, চশমা, গৃহস্থালি পণ্য, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন খাবার বিক্রি হচ্ছে। এক বিক্রেতা জানান, মেলায় চীনা পণ্যের আধিক্য রয়েছে।

শহরের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের পরিচালক ইমন-উল হক বলেন, বন্যা ও বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে ফেনীর ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ধরনের মেলা তাদের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নামে তাঁত ও বস্ত্র মেলা হলেও বাস্তবে নিম্নমানের ও বিদেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের মেলা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content