মো. শাহ আলম মণ্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ২১ জুলাই ২০২৬ , ১২:২২:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের বিরামপুরে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ল্যাম্ব হেলথ-ইউকের আর্থিক সহযোগিতায় এবং ল্যাম্বের কমিউনিটি সেফটি শিল্ড (সিএসটি) প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানব পাচার ও এসজিবিভি-সংক্রান্ত ঘটনার কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য রেফারেল পথনির্দেশনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের অবহিত করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি মানব পাচার ও এসজিবিভি মামলার সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মতিক্রমে তাতে স্বাক্ষর করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশে গেলে মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
ল্যাম্বের কমিউনিটি সেফটি শিল্ড (সিএসটি) প্রকল্পের পক্ষে কর্মশালার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিলাস পৌল তিগ্যা, সিএইচডিপি ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমানসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও এসজিবিভির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুসংগঠিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালায় প্রণীত এসওপি ও শক্তিশালী রেফারেল ব্যবস্থা ভবিষ্যতে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





















