সারাদেশ

কালীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৭:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত শিশুটির নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। সে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গণপিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি একই এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমিরুলের স্ত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাকে না পেয়ে বিষয়টি কালীগঞ্জ থানায় জানানো হয়।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে নলতা কাজলা কাশিবাটি এলাকায় সুমাইয়ার বসতঘরের একটি আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সন্দেহভাজন নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content