চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:১৫:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম—জিয়াউর রহমান নন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার প্রথম আহ্বান উচ্চারিত হয়েছিল এবং সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন কর্নেল অলি আহমদ ‘উই রিভল্ট’ বলে।
সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, কর্নেল অলি আহমদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখযোদ্ধা এবং জিয়াউর রহমানকে তিনি সামনে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, কর্নেল অলি নিজেই আক্ষেপ করে বলেন—বর্তমান বিএনপি জিয়াউর রহমান কিংবা বেগম জিয়ার আদর্শের বিএনপি নয় বলেই তিনি আর সেখানে নেই।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জিরো পয়েন্টে প্রকাশ্য দিবালোকে ছয়জনকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে খুনের রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তার সাক্ষী দেশের ১৮ কোটি মানুষ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন মুক্ত হয়েছে। দেশকে পুরোপুরি মুক্ত ও সার্বভৌম করতে হলে ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দল আবারও সেই পুরোনো বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছে। নারী নিপীড়ন ও হুমকির রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, “মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা মানুষ নয়—এরা জন্তুতুল্য।” এ বিষয়ে কথা বলায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড পৌরসদরের ডেবারপাড় মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। “আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না,”—বলেন তিনি। কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়াস্থ মুক্তিযোদ্ধা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হবে এবং শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া হাই স্কুল মাঠে জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হব।”
জনসভাগুলোতে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। শেষে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে জোটের প্রতীক—দাঁড়িপাল্লা, শাপলাকলি ও ছাতা—তুলে দেওয়া হয়।





















