রাজনীতি

অনাপত্তিপত্র নিয়েই বিমানে টাকা বহন করছিলেন ঠাকুরগাঁও আমির: জামায়াত

  প্রতিনিধি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৩:০২:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র নিয়েই ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন টাকা বহন করছিলেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আজ বুধবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জেনেছেন নগদ টাকা বহন করছেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন। তারা অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন যে অভ্যন্তরীণ রুটে এই ধরনের টাকা বহন করতে অসুবিধা নাই। এরপরও তাকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পরিকল্পিতভাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকে একজন দায়িত্বশীল ঢাকা থেকে গিয়েছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এবং সেখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটকের নামে একটা সাজানো নাটক করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি (জামায়াত নেতা) তার বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন যে, আমার ব্যবসায়ের জন্য আসা যাওয়া করি। আমাকে কিছু লেনদেন করতে হয়। ব্যাংক বন্ধ, এ জন্য তার সঙ্গে কিছু নগদ টাকা ছিল যেটি খুবই স্বাভাবিক। একজন মানুষ ব্যবসা করতে পারেন তার পরিবারের প্রয়োজনে বা অন্য প্রয়োজনে তিনি এটা বহন করতেই পারেন।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো একটা সংরক্ষিত এলাকায় খুবই লিমিটেড মানুষের চলাফেরা। সেখানে একটা নাটক সাজানো হয়েছে যে, তিনি এই টাকা নিয়ে যাচ্ছেন এবং এটার বিভিন্ন অর্থ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, নিউজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বয়স্ক ওই দায়িত্বশীল অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মানসিক নির্যাতনের কারণে এই মুহূর্তে তাকে রংপুর হাসপাতালে তাকে নেওয়া হচ্ছে।’

প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘যেহেতু চলাফেরার জন্য এখন গাড়ি সীমিত। বিভিন্ন ধরনের চেক করে। বিভিন্ন ধরনের বিষয় আছে। এখানে তিনি মনে করেছেন যে আমার জন্য এটা সেফ। এটা করতেই পারি। আমি আমার ক্যাশ বহন করবো সেটা প্লেনে না ট্রেনে নাকি হেলিকপ্টারে, যেটা তো তার রাইট আছে। তিনি তো কোনো অন্যায় করেন নাই। কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স করেন নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫০ লাখ টাকা উনার ব্যক্তিগত, সেই টাকা নিয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা ছড়িয়ে দিতে পারে? টাকাটা আসলেই নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না? সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিউর না হয়ে তারা যে কাজটা করল উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই কাজটি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই করেছেন। এজন্য আমরা বলেছি যে আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে রিলেটেড একদল লোক এই সমস্ত নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন।’

আটক নেতার মুক্তি চেয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এই ঘটনায় জড়িত, কাজটা করেছেন আমরা অবিলম্বে তাদের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা করার জন্য কথা বলছি। তাকে মুক্তি দেওয়া তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তার পরিবারের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছি।’

জুবায়ের বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেছেন যে, আভ্যন্তরীণ রুটে এই ধরনের অর্থ পরিবহনে কোনো বাধা নেই, তিনি (জেলা জামায়াত আমির) অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন। আমরা সেই কাগজটা দিয়ে দেব আপনাদের কাছে। সুতরাং এটা বুঝাই যাচ্ছে যে এটা একটা পরিকল্পিতভাবে একটা ইলম মোটিভেটেড এবং জামায়াতে ইসলামী ও নেতৃবৃন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই কাজটা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে তিনি স্টার্ট করেছেন সেখানে দায়িত্বশীলরা দেখেছেন তারা সেখানে ওকে করেছেন অথচ পৌঁছার পরে সেখানে গিয়ে এই নাটকটা সাজানো হয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content