সারাদেশ

মহাখালী-বনানীতে ভোটের সমীকরণ, তরুণদের নজরে রনি

  বিশেষ প্রতিনিধি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:২৬:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনকে ঘিরে মহাখালী ও বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ২০ নম্বর ওয়ার্ডে জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও চায়ের আড্ডায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এর মধ্যে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বনানী থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মইনুল ইসলাম রনি।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন রনি। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একাধিকবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলেও দলীয় সূত্রের দাবি।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের ভাষ্য, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তরুণদের মধ্যে রনির একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তাঁরা ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে একজন তরুণ ও সক্রিয় নেতৃত্ব চান। মইনুল ইসলাম রনিও আসন্ন নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

মহাখালী এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একজন প্রতিনিধি চাই, যিনি তরুণদের কথা বুঝবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হবেন। মইনুল ইসলাম রনি সব সময় তরুণদের পাশে ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সম্পৃক্ততা আমাদের আকৃষ্ট করেছে।”

প্রার্থিতা ও নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে মইনুল ইসলাম রনি বলেন, “জনগণের সেবা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে ২০ নম্বর ওয়ার্ডকে আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।”

তিনি নির্বাচিত হলে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ামুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলা; নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

রনির পরিকল্পনা অনুযায়ী, তরুণদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং এলাকায় মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বনানী থানা বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে রনি দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও রয়েছে। তরুণদের মধ্যে তাঁর যে সমর্থন তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে জুটবে এবং নির্বাচনে ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের রায়ের ওপর। ফলে ডিএনসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মইনুল ইসলাম রনির অবস্থান আগামী দিনে কী হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।

আরও খবর

Sponsered content