প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১:০৬:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরান-মার্কিন সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা সেন্টকম। রাজধানী তেহরান, উপকূলীয় অঞ্চল এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় চালানো এ অভিযানের পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরান যেসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে, সেসব অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে এই হামলা।
তবে বন্দর আব্বাস ও তুনব দ্বীপের বাইরে অন্য কোন কোন এলাকায় হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সেন্টকম। তবে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলায় বন্দর আব্বাস ও তুনব দ্বীপের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ছাড়াও পূর্ব তেহরানের সেনমান বিমানবন্দর, খোন্দাব, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কিছুক্ষণ পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির বাহিনী জর্ডানের আল আজরাক মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুই দেশের সরাসরি সংঘাত। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং শান্তি আলোচনার পথ এগিয়ে নিতে ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল ইরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।
তবে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর জবাবে ৭ জুলাই ইরানে পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে আবারও শুরু হয়েছে ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলা, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।





















