প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৬ , ১০:০০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাবিত কাঠামোগত চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করেছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বিশ্ব বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়ত। তার দাবি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তেলের মজুত আরও প্রায় চার সপ্তাহের বেশি টিকত না।
ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কিছু রিজার্ভ রয়েছে, কিন্তু সেগুলোও দ্রুত শেষ হয়ে যেত। এমন একটি সময় আসত, যখন প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত।’
তিনি আরও স্বীকার করেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা সম্ভব হতো না। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যদি আমরা বোমা হামলা চালিয়ে যেতাম, তাহলে ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্ভব হতো না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত স্বীকার করেছেন যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল কার্যকর ছিল। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারে চাপ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং মজুত পরিস্থিতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানায়, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক তেলের মজুত মাত্র কয়েক সপ্তাহের চাহিদা পূরণের মতো রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ব্যারেল, যা সংঘাত শুরুর সময় ছিল প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল।
সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি
এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে, যার আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপ ছিল তাদের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনের জবাবে একটি বৈধ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা থাকলেও এর আগেই অনলাইনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তেহরানের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই সমঝোতা ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। কারণ, নিজেদের সার্বভৌম অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই দেশটি যুদ্ধের অবসান এবং অবরোধ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা পেয়েছে।




















