খেলাধুলা

বাবার মৃত্যুর পর মাঠে ফিরলেন মেসি, মায়ামির বিদায়

  প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ৯:৪৯:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর বুধবার আবার মাঠে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। তবে তার প্রত্যাবর্তনের দিনেই লিগস কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইন্টার মায়ামিকে। নু স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর শীর্ষ লিগের দল ক্লাব লেওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়েছে মায়ামির।

মেসির বাবা হোর্হে মেসি শনিবার আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

বাবার মৃত্যুর পর মেসি শনিবারই বিমানে রোসারিও যান। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেখানে তিনি বাবার স্মরণে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বুধবারের ম্যাচে মেসিকে প্রথমে বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায় রাখা হয়। বিরতির সময় মায়ামি ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন মেসি। তিনি দানিয়েল পিন্তেরের বদলি হিসেবে খেলতে নামেন। প্রথমার্ধে মায়ামির হয়ে গোলটি করেছিলেন পিন্তের।

মেসির মাঠে ফেরার প্রশংসা করে কাসেমিরো বলেন, ‘সে দারুণ একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। নিশ্চিতভাবেই সে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ক্লাবের প্রতি তার যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন কিছু আমি কখনো দেখিনি। আমাদের তাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। এখানে আসার জন্য, আমাদের সহায়তা করার জন্য এবং ক্লাবকে সাহায্য করার জন্য তাকে ধন্যবাদ।’

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫০তম মিনিটে দানিয়েল আরসিলা গোল করে লেওনকে সমতায় ফেরান। এরপর ইয়ানিক ব্রাইটের গোলে আবারও এগিয়ে যায় মায়ামি। তবে জুয়ান দোমিঙ্গেসের গোলে সমতায় ফেরে লেওন। পরে আরসিলা নিজের দ্বিতীয় গোল করে লেওনের জয় নিশ্চিত করেন।

এই হারে মায়ামির নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে একটি জয় ও দুটি পরাজয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে লেওন লিগস কাপে নিজেদের তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে।

গত বছর মেসির নেতৃত্বে মায়ামি লিগস কাপের ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ফাইনালে সিয়াটল সাউন্ডার্সের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।

মায়ামির মাঝমাঠের খেলোয়াড় ইয়ানিক ব্রাইট জানান, ম্যাচের আগে মেসিকে ক্লাবের অনুশীলন কেন্দ্রে দেখে দলের সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

ব্রাইট বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমি এটা আশা করিনি। এতে বোঝা যায়, সে ক্লাবটির প্রতি কতটা যত্নশীল। যখন দেখলাম সে এখানে এসেছে, তখন শুধু মনে হচ্ছিল তার জন্য আমাকে ১৫০ শতাংশ দিতে হবে। পরিস্থিতিটা কঠিন। তাই আমরা তার কাছাকাছি থাকার এবং যতটা সম্ভব তাকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বুধবারই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি বার্তা দেন মেসি। সেখানে তিনি জানান, বাবার অসুস্থতার মধ্যেও কীভাবে বিশ্বকাপে খেলে যেতে হয়েছিল তাকে। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

মেসি লিখেছেন, ‘তুমি আমাকে অনেকবার বলেছিলে, শেষ বিশ্বকাপে খেলতে। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেই তুমি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিলে। সেটিই ছিল প্রথমবার, যখন তুমি কোনো টুর্নামেন্টে ছিলে না। তবে মা আমাকে বলেছিলেন, তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং আমাদের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবে। আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠব, যাতে তুমি সেখানে যেতে পারো।’

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষা করতাম এবং পরে সেই বার্তাগুলোকে ভীষণভাবে মিস করতাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম পরিস্থিতি কতটা খারাপ। কিন্তু যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা আমি থামাইনি, যাতে তোমার জন্য সময় তৈরি করতে পারি এবং আমরা ফাইনালে উঠলে তুমি অন্তত একটি ম্যাচ দেখতে পারো।’

বাবাকে উদ্দেশ করে মেসি আরও বলেন, ‘কিন্তু তুমি সেখানে থাকতে পারোনি। আমি বিশ্বকাপ জিতে সেটি তোমার কাছে নিয়ে যেতে এবং আবার তোমাকে দেখাতে চেয়েছিলাম। আমি পারিনি। আমার পা আর কিছু দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। তুমি ভেবেছিলে, আমরা টাইব্রেকারে ফাইনাল হেরেছি। এরপর যা ঘটেছিল, সেসব নিয়ে আমরা কথা বলতে পারিনি। আমি কিছুই উপভোগ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তবে প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি, তা তুমি জানো না। তুমি আবারও ঠিক ছিলে, বিশ্বকাপে আমার থাকা এবং খেলা প্রয়োজন ছিল।’

লিগস কাপে মায়ামি নিজেদের প্রথম ম্যাচে আতলেতিকো সান লুইসকে হারিয়েছিল। এরপর বাবার স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মেসি আর্জেন্টিনায় থাকায় শনিবার মন্তেরের কাছে হেরে যায় দলটি। বুধবার মেসি ফিরলেও তার উপস্থিতি মায়ামিকে শেষ পর্যন্ত পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি।

আরও খবর

Sponsered content