প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:১৪:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ইউরোপের সেরা ক্লাবের মর্যাদা আরও একবার প্রমাণ করল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার উয়েফা সুপার কাপে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলটি।
সালজবুর্গে পিএসজির হয়ে গোল করেন খভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া ও দেজিরে দুয়ে। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে একটি গোল করেন দলের তরুণ ফরোয়ার্ড ব্রায়ান মাজো। এক বছর আগে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে প্রথমবার সুপার কাপ জিতেছিল পিএসজি।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং দ্বিতীয় স্তরের ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার বিজয়ীর মধ্যকার এই ম্যাচ পরিচালনা করেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান।
৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি গত জুনে অনিচ্ছাকৃতভাবে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছিলেন। বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নির্বাচিত রেফারিদের তালিকায় থাকার পরও মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
ম্যাচ শেষে দেজিরে দুয়ে বলেন, ‘এটি অসাধারণ অনুভূতি। এই ট্রফি জেতা সত্যিই দারুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি খুব কঠিন ছিল। কারণ এর আগে আপনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে হয়। আমরা আবারও সেটি করেছি এবং দ্বিতীয়বারের মতো সুপার কাপও জিতেছি। আমাদের জন্য এটি সত্যিই অসাধারণ।’
দুই দলই নিজেদের ঘরোয়া মৌসুম শুরুর আগে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামে।
পিএসজির একাদশে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে শিরোপা জেতা নয়জন খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস এবং অধিনায়ক মারকিনিয়োস।
রোববার পিএসজিতে যোগ দেওয়া ফরাসি লেফট-ব্যাক লুকাস দিনিয়েকে বেঞ্চে রাখা হয়। মজার বিষয় হলো, তিনি তার পুরোনো ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষেই এই ম্যাচের জন্য বেঞ্চে ছিলেন।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের খেলোয়াড় এজরি কনসা, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও অলি ওয়াটকিন্সকে বিশ্রাম দেয় অ্যাস্টন ভিলা। তবে মিডফিল্ডার জোয়াও গোমেস ও ফরোয়ার্ড ব্রায়ান মাজোকে অভিষেক করান কোচ উনাই এমেরি।
জানুয়ারিতে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর প্রথমবারের মতো শুরু থেকেই মাঠে নামেন মিডফিল্ডার বুবাকার কামারা।
২০ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে পিএসজি। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে কাছের পোস্টে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান কোয়ারাতসখেলিয়া।
কয়েক মিনিট পর আবারও ভিলার রক্ষণে চাপ তৈরি করেন জর্জিয়ার এই তারকা। তাঁর পাস থেকে বাঁ প্রান্তের খেলোয়াড় নুনো মেন্দেস বল পেয়ে সতীর্থদের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু দৌড়ে আসা পিএসজির খেলোয়াড়দের কেউই বলটি স্পর্শ করতে পারেননি।
তবে ভিলার রক্ষণ সেই চাপ সামলে নেয়। আধা ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তারা। জন ম্যাকগিনের ক্রস থেকে মাথা ছোঁয়ালেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন মাজো।
১৭ বছর বয়সী এই তরুণ আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল বিরতিতে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়বে ভিলা। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে তারা।
৪৫ মিনিটে আবারও মাজোকে বল বাড়িয়ে দেন অভিজ্ঞ স্কটিশ খেলোয়াড় ম্যাকগিন। এবার বাঁ পায়ের জোরালো শটে পিএসজির জালে বল পাঠান মাজো।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার পর বিরতিতে নতুন পিএসজি খেলোয়াড় মাগনেস আকলুশের বদলে মাঠে নামানো হয় ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলেকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার ধরে রাখে ভিলা। মাজো ও ম্যাকগিন আবারও দারুণ সমন্বয় করেন। ম্যাকগিনের বাঁকানো শট ঠেকিয়ে দেন পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ।
৬১ মিনিটে ডান দিক দিয়ে দ্রুত উঠে এসে গোল করেন ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে। তবে সহকারী রেফারির পতাকায় প্রথমে গোলটি বাতিল করা হয়।
পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাঠের দূর প্রান্তে থাকা ভিলার ডান প্রান্তের খেলোয়াড় ম্যাটি ক্যাশ পিএসজির খেলোয়াড়কে অনসাইডে রেখেছিলেন। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। গোল ফিরে পেয়ে বিস্মিত ও আনন্দিত হন দুয়ে।
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে পিএসজির মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী করতে বিশ্বকাপজয়ী ফাবিয়ান রুইজকে মাঠে নামান কোচ লুইস এনরিকে। সমতায় ফেরার জন্য তখন মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে ভিলা।
শেষ ১০ মিনিটে সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় তারা। ছয় গজ বক্সের ভেতরে অ্যালিসনের বাড়ানো বলের নাগাল অল্পের জন্য পাননি ট্যামি আব্রাহাম।
ম্যাচ শেষে অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া বলেন, ‘এটি ভালো অনুভূতি নয়। তবে আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত হতে পারি। আমরা ভালোভাবে লড়াই করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তারা সুযোগ পেলে গোল করে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয়।’
কাতারের অর্থায়নে পরিচালিত ফরাসি লিগের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রেখে নতুন মৌসুম শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতা।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেন, ‘টানা প্রতিযোগিতা জেতা খুব কঠিন। তাই এই সাফল্য উপভোগ করতে হবে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পেশাদার থাকতে হবে এবং আবারও জেতার চেষ্টা করতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’















