প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১:২২:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আজ বৃহস্পতিবার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ জুলাই একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সব শহীদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
আন্দোলনে আহত তরুণ-তরুণী ও যুবকদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেকেই স্থায়ীভাবে আহত হয়ে এখনো কষ্টের জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং জুলাই যোদ্ধাসহ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া এবং একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন তরুণের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; বরং এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সাহস, আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার ফল।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি জানান, শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কাজে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি।





















