সারাদেশ

অবশেষে গাজীপুরের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০২৬ , ৬:৩৭:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর গুদামজাত রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আলোচিত সেই ঘটনায় গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় বিষয়টি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ডা. মামুনুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি কোয়ার্টার ভবনের নিচতলার পাঁচটি পরিত্যক্ত কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ না হওয়ায় এসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই ভবনের আরও দুটি কক্ষে হাসপাতালের জন্য কেনা বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল। ওই সময় ডা. মামুনুর রহমান কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ বিতরণ না করে দীর্ঘদিন গুদামজাত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়। এতে একদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অসংখ্য দরিদ্র রোগী। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এত বড় অনিয়ম দীর্ঘ সময় ধরে চললেও তা কেন যথাসময়ে শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা হয়নি। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং জনস্বাস্থ্যসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে আর্থিক দায় নির্ধারণ ও আইনানুগ অন্যান্য পদক্ষেপও বিবেচনায় রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হলেও ডা. মামুনুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে কী জবাব দেন এবং তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।

আরও খবর

Sponsered content