প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০২৬ , ৭:১২:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করতে এসব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে বাস্তুচ্যুতিসহ নানা সংকটের মধ্যে থেকেও শিশুরা শিখতে পারবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।
ব্র্যাক আয়োজিত সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ) উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। আজ সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনএবং দ্বিতীয় পর্বের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া এবং সম্মনিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামির বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। যেখানে ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এসব অঞ্চলে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি ৫ কোটি মার্কিন ডলারের এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডায় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের লালন-পালন ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের এই অংশীদারত্ব সব বয়সী শিশুদের খেলাধুলার মাধ্যমে শেখা এবং তাদের সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় যত্ন, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা হলে আগামী দিনে আমরা একটি দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব; যারা দেশকে আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নেবে।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে খেলার ছলে শেখার পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার এ ধরনের সফল মডেলগুলোকে নিয়ে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি এই পদ্ধতিগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও চালু করা সম্ভব। শিক্ষার এই সামগ্রিক রূপটিকে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করতে পারলে তা কেবল শিশুদেরই উপকার করবে না, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সেটি অবশ্যই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে এবং তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে। প্রকল্প ভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গিই লেগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্বকে অনন্য করে তুলেছে। গত ৫০ বছরে ব্র্যাক এমন সব কার্যকর, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য মডেল তৈরি করেছে, যেগুলো পরে বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) এখনো এমন সব উদ্ভাবনী মডেল তৈরি করে চলেছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।





















