আবু হানিফ রানা চট্টগ্রাম ব্যুরো, দৈনিক মতপ্রকাশ ৫ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:১৯:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমানে দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
হৃদরোগের ঝুঁকি, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ।
প্রশ্ন: দেশে হৃদরোগের প্রবণতা এখন কেমন? চট্টগ্রামে এর চিত্র কী?
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ: আগের তুলনায় হৃদরোগের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। চট্টগ্রামে ২০১১ সালের তুলনায় ২০২১ সালে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বাস্তবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও অনেক বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অনেক রোগী চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভর করছেন।
প্রশ্ন: তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের হার কেন বাড়ছে?
উত্তর: অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এর মূল কারণ। ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুডের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এসব বিষয় বড় ভূমিকা রাখছে।
প্রশ্ন: সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী?
উত্তর: বুকে তীব্র চাপ বা অস্বস্তি অনুভব করা প্রধান লক্ষণ। এই ব্যথা বুক থেকে গলা, বাম হাত বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, হাঁটলে বা শোয়ার সময় শ্বাসকষ্টও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অনেকেই এটিকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে অবহেলা করেন, যা বিপজ্জনক।
প্রশ্ন: বয়স ও অন্যান্য ঝুঁকি কী?
উত্তর: সাধারণত ৪০ বছরের পর ঝুঁকি বাড়ে। তবে এখন কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—
প্রশ্ন: স্টেন্টের ভেতরে ব্লক হলে কী করা হয়?
উত্তর: এটিকে ইন-স্টেন্ট রিস্টেনোসিস (ISR) বলা হয়। দ্রুত ব্লক খুলতে হয়। সাধারণত বেলুনিং (Balloon Angioplasty) করা হয়। প্রয়োজন হলে আবার স্টেন্ট বসাতে হতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে চর্বি ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
প্রশ্ন: কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?
উত্তর: চিনি, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিযুক্ত খাবার কমাতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ডায়েট মেনে চলা জরুরি।
প্রশ্ন: মানুষের মধ্যে কী ভুল ধারণা রয়েছে?
উত্তর: অনেকেই হার্টের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিক মনে করেন এবং দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান। এই দেরি জীবনঝুঁকি বাড়ায়।
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ:
“সুস্থ হৃদয়ের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পরিশ্রমী জীবনধারা বজায় রাখা জরুরি।”
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: আবু হানিফ রানা
চট্টগ্রাম ব্যুরো, দৈনিক মতপ্রকাশ















