প্রচ্ছদ

গণমানুষের কণ্ঠস্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদাতা সুরকার খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া

  মো: সাকিব চৌধুরী ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৩:৩২:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ


বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ শুধু কৃষি ও ইতিহাসে নয়, সংস্কৃতির ভাণ্ডার হিসেবেও বিশেষভাবে খ্যাত। সেই ভাণ্ডারের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া—যিনি ছিলেন একাধারে সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক ও গণসংগীত কর্মী। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর সৃষ্ট সুর ও গান হয়ে উঠেছিল মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা।

রংপুরে জন্ম নেওয়া খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া শৈশবেই সংগীতের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন। লোকগীতি, দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা তাকে টানত। ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক আসরে অংশগ্রহণ ও স্থানীয় মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমেই তার শিল্পীজীবনের ভিত গড়ে ওঠে।

১৯৬৭ সালে রংপুর বেতার কেন্দ্র উদ্বোধনের দিন তিনি প্রথম সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পান। এরপর যোগ দেন বেতারে নৈমিত্তিক সংগীত প্রযোজক হিসেবে। ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারের প্রিন্সিপাল মিউজিক প্রডিউসার হন। ২০০১ সালে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর নেন।

তার জনপ্রিয় সৃষ্টির মধ্যে—

  • “আমার এ দেশ সব মানুষের…” (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত হয়ে মুক্তির স্লোগানে রূপ নেয়)

  • শামসুর রহমানের “দাউদাউ পুড়ে যাচ্ছে”

  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর “কুমড়ো ফুলে ফুলে”

  • ফজল শাহাবুদ্দিনের “বাংলাদেশের যত নদী”

  • মাহফুজ উল্লাহর “শহীদের স্মৃতি জল”

প্রতিটি গানেই ফুটে উঠেছিল শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও বঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন।

তিনি বিশ্বাস করতেন— “সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি মুক্তির হাতিয়ার।” সেই বিশ্বাস থেকেই জীবনভর তিনি গণমানুষের কথা বলেছেন সুরের ভাষায়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭৯ বছর বয়সে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম জানাজা শেষে নূরপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া শুধু একজন সুরকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর। উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানা যায়, তিনি ছিলেন চিলাহাটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম বাবুল স্যারের বড় ভাই। যদিও জন্ম চিলাহাটিতে নয়, তাঁর পৈতৃক বাড়ি ও জমিজমা রয়েছে চিলাহাটিতেই।

আরও খবর

Sponsered content