সারাদেশ

বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, সালিসে অভিযুক্তকে জুতাপেটায় রফাদফা

  প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০২৬ , ৫:৪১:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ স্থানীয়দের হাতেনাতে ধরার পর গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে তাকে ‘জুতার বাড়ি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার বাকপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী একা ছিল। সেই সুযোগে প্রতিবেশী মহব্বত আলী বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে কিশোরীর চিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

ঘটনাটি থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিস ডাকা হয়। সালিসে মহব্বত আলীকে শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়। গুরুতর এই অপরাধকে এভাবে লঘু শাস্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার।

প্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই ও ভাবি জানান, নাসির খানের আহ্বানে গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে সালিসে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আ. মালেক, ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম।

কিশোরীর ভাবি বলেন, ‘সালিসে প্রধানরা ১০ জোরা জুতার বাড়ি দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন। আমাদের লোকজনদের সালিসে কথা বলার সুযোগ দেয়নি। আমরা ওই সালিসের রায় মানি না।’

এদিকে গতকাল রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণ চেষ্টার বিচারের রায় প্রকাশ হলে আজ সোমবার দুপুরে ওই কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে সাঁথিয়া খানায় মামলা করেছেন।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে কারা জড়িত এবং কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল অহাব প্রামানিক সালিশের রায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সালিসে আমাকে ডেকে নিয়ে ছিল। আমি আগে কিছু জানতাম না।’

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিসের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি। আজকেই মামলা রজু করা হবে।’

আরও খবর

Sponsered content