ধর্ম

জিকিরের ৫ উপকারিতা

  প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৭:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামে মহান আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করা অর্থাৎ ‘জিকির’ করার ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। দৈনিক জীবনের নানা ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের মাঝে জিকির মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং আত্মিক উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে। কোরআন-হাদিসে জিকিরের ফজিলত ও উপকারের কথা বর্ণিত হয়েছে। জিকির মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে, ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে। জিকির করার পাঁচটি উপকার তুলে ধরা হলো—

আল্লাহর স্মরণ

জিকিরের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহকে স্মরণ করা। মানুষ যখন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহসহ বিভিন্ন জিকির করে, তখন তার অন্তর আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)

অন্তরের প্রশান্তি

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, হতাশা ও মানসিক চাপ আসতেই পারে। সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর জিকির অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তর প্রশান্ত হয়। (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)। তাই দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতার সময়ে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা মুমিনের জন্য প্রশান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

ঈমানদার হওয়ার লক্ষণ

মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সে আল্লাহকে স্মরণ করে। জীবনের সুখ-দুঃখ, স্বস্তি-অস্বস্তি—সব পরিস্থিতিতেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে। জিকিরের মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজের ঈমানকে তাজা রাখে এবং আল্লাহর প্রতি তার নির্ভরতা ও আনুগত্য প্রকাশ করে। নিয়মিত জিকির মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং আল্লাহর প্রতি সচেতন থাকতে সহায়তা করে।

অল্প আমলে বেশি সওয়াব

জিকির এমন একটি আমল, যা করতে বেশি সময় বা বিশেষ আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে সহজেই আল্লাহর জিকির করা যায়। রাসুল (সা.) বিভিন্ন জিকিরের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব লাভের কথা জানিয়েছেন। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবে জিকির মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।

ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর স্মরণ

বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের বড় অংশজুড়ে জড়িয়ে আছে কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যেও আল্লাহকে স্মরণ করা সম্ভব। জিকিরের জন্য দীর্ঘ সময় আলাদা করে বের করা সবসময় জরুরি নয়। কাজের ফাঁকে, যানবাহনে চলার সময় কিংবা অবসরে জিকির করা যায়। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক অটুট থাকে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার কথা স্মরণ করার অভ্যাস তৈরি হয়।

আরও খবর

Sponsered content