ধর্ম

শূকরের নাম নিলে কি ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকে

  প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২০:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, শূকরের নাম উচ্চারণ করলে বা বললে মুখ নাপাক হয়ে যাওয়া এবং ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ভুয়া ও মনগড়া একটি ধারণা। কুরআন, হাদিস বা ইসলামের নির্ভরযোগ্য কোনো ফিকহ শাস্ত্রে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। অনেকের কাছেই আবার ‘শূকর’ শব্দটি না বলে আরবি ‘খিনজির’ বলতে শোনা যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি আছে কি?

শূকরের গোশত খাওয়া হারাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশত হারাম করেছেন…।’ (সুরা বাকারা: ১৭৩) এই আয়াতে শূকরের গোশত হারাম হওয়ার বিধান এসেছে, নাম উচ্চারণের কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় কোরআনের ভাষা থেকেই। আরবিতে শূকরকে বলা হয় ‘খিনজির’। কোরআনে এই শব্দটি একাধিক বার এসেছে। কোরআনিক শব্দতথ্য অনুযায়ী, একবচন ‘খিনজির’ চারবার এবং এর বহুবচন ‘খানাজির’ একবার এসেছে।

অর্থাৎ কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতে গিয়ে মুসলিমরা শূকরের নাম উচ্চারণ করেন। অথচ নামটি উচ্চারণের কারণে মুখ অপবিত্র হয়ে যাওয়ার কোনো বিধান নেই। এখানে যে বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি সেটি হলো- শূকরের গোশত হারাম হওয়া এবং শূকরের নাম উচ্চারণ করা এক বিষয় নয়। সুরা আনআমের ১৪৫ নম্বর আয়াতে শূকরের গোশতকে ‘রিজস’ বা অপবিত্র বলা হয়েছে। এই বিধান খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ভিত্তিতে নাম উচ্চারণের জন্য আলাদা কোনো নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয় না।

তাহলে ৪০ দিনের কথা কোথা থেকে এসেছে?

শূকর সম্পর্কে শরিয়তের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের একটি ধারণা প্রচলিত হয়ে থাকতে পারে। তবে যেহেতু এর পক্ষে কোনো শরিয়তি দলিল পাওয়া যায় না, তাই ‘শূকর’ শব্দটি বলা যাবে না, শুধু ‘খিনজির’ বলতে হবে কিংবা নাম উচ্চারণের পর ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকবে—এ ধরনের কথাকে ইসলামি বিধান হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

সুতরাং, দ্বীনের বিধান প্রচলিত ধারণা দিয়ে নয়, নির্ভরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। শূকরের নাম উচ্চারণ করলে মুখ নাপাক হওয়া বা ৪০ দিন ওজু-নামাজ না হওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শিক্ষামূলক, সচেতনতামূলক বা সাধারণ প্রয়োজনে শূকর বা অন্য যেকোনো পশুর নাম বলা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ বৈধ।

 

আরও খবর

Sponsered content