প্রতিনিধি ১৬ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২৮:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রস্রাব, পায়খানা বা বায়ুর বেগ চেপে রেখে সালাত (নামাজ) আদায় করা ইসলামে অনুত্তম ও অপছন্দনীয় (মাখরুহে তাহরিমি)। সালাতের মূল প্রাণ হলো একাগ্রতা ও খুশু-খুজু (বিনয়)। দেহের স্বাভাবিক তাগিদ চেপে রাখলে মন সালাতে মনোযোগী থাকে না, যা সালাতের আত্মাকে ব্যাহত করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা বলেন, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের নামাজ (কায়েম কর)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৭৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলছেন,‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)। অর্থাৎ, প্রকৃত নামাজি সব ধরনের অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
তাই পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া বিধানগুলোর মধ্যে নামাজের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। আর নামাজের মর্যাদা যেমন বেশি, তেমনই নামাজি ব্যক্তির মর্যাদাও বেশি। তবে যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন তাদের অনেকে অনেক সময় প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর চাপ রেখে নামাজে দাঁড়িয়ে যান। অলসতা কিংবা ব্যস্ততার কারণে পুনরায় ওজু না পড়তেই এমনটা করে থাকেন তারা। তাই প্রশ্ন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এমনটা করা জায়েজ কি না। চলুন তাহলে জেনে নিই বিস্তারিত—
হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব-পায়খানা ও বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যখন নামাজে দাঁড়িয়ে যাও আর তোমাদের কারও প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দেয়, সে যেন প্রথমে প্রয়োজন সেরে নেয়।’(তিরমিজি : ১৪২)
হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আর কেউ যেন প্রস্রাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজ না পড়ে।’(তিরমিজি: ৩৫৭)
হজরত নাফে রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, এক ব্যক্তি পেটে বায়ুর চাপ বোধ করে। তিনি বললেন, ‘বায়ুর চাপ বোধ করা অবস্থায় সে যেন নামাজ না পড়ে।’(মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৮০২২)
এসব হাদিস ও আসারের ওপর ভিত্তি করে ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মত হলো, সাধারণত প্রস্রাব-পায়খানা ও বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ তাহরিমি। আর স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ শুরু করার পর নামাজের ভেতরে এমন চাপ সৃষ্টি হলে নামাজের পর্যাপ্ত ওয়াক্ত বাকি থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যাওয়া মাকরুহ। এ ধরনের ক্ষেত্রে নামাজ ছেড়ে দিয়ে অজু-ইস্তিঞ্জা সেরে পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করা কর্তব্য। কেননা এতে নামাজের খুশু-খুজু বিঘ্নিত হয়। এক ধ্যানে নামাজ আদায় করা যায় না। প্রাকৃতিক এসব চাপ থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্থিরতা ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা কর্তব্য।
করণীয় নির্দেশনা
সময় পর্যাপ্ত থাকলে: ওয়াক্তের সময় থাকলে আগে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করুন, অজু করুন এবং শান্ত মনে সালাতে দাঁড়ান।
ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে: যদি প্রয়োজন মেটাতে গেলে সালাতের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে ওই অবস্থাতেই সালাত আদায় করে নেওয়া জায়েজ, যাতে ওয়াক্ত কাজা না হয়।
জামাত মিস হওয়ার ভয় থাকলে: জামাত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকলেও আগে নিজেকে চিন্তামুক্ত করাই উত্তম।















