মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ৫:৩১:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ইনজেক্টেবল স্যালাইন পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও তা রোগীকে সরবরাহ না করে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীর টাকা নিজ অর্থ থেকে ফেরত দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে দায়ী নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে এক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সরকারি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে হয়েছে। অভিযোগ শুনে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। পরে রোগীর খরচ হওয়া টাকা নিজ অর্থ থেকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী নার্সের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এতদিন এখানে ১০০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী রোগীদের খাবার দেওয়া হতো। এ সংকট দূর করে খাবারের মান উন্নত করতে রোগীপ্রতি খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে পুরোপুরি জবাবদিহিতাহীন করে রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা অবহেলা সহ্য করা হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমাতে জেলা ও মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে ৬০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৯ তলা ভবনসহ ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে সাড়ে ৯ হাজার নতুন চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
আকস্মিক পরিদর্শনকালে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















