প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৪৮:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বিমানবাহিনী সদরদপ্তরে ‘নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং বিগত বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়ে তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভাবাদর্শ নয়, বরং কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপরই মূল গুরুত্ব দিতে হবে।’
এ সময় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়ায় নৌ ও বিমানবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন তারেক রহমান।
এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে সরকারপ্রধান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্র, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (ADSI), এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (ACOC) এবং অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স (ARDC)-এর বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় তৈরি আধুনিক ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল (VTOL)-সহ বিভিন্ন উড্ডয়ন ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন তিনি। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সামরিক আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে দেশীয় এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।





















