আন্তর্জাতিক

ইমরানকে নির্দেশিত হাসপাতালে না নেওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা পিটিআইয়ের

  প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:১৩:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

শনিবার পিটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, দলের আইনজীবীরা প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়তার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান হয়।

পিটিআইয়ের আইন উপদেষ্টা নাইম পাঞ্জুথা বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়ার কথা ছিল।

তবে শুক্রবার রাতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইমরান খানকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই।

দলটির দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে অন্তত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার কথা।

ইমরান খানের বোন উজমা খান পিআইএমএসে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে তার ভাই সুস্থ আছেন। তবে ইমরান তাকে জানিয়েছেন, কারাগারে তাকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।

তবে ইমরান খানের নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার শুক্রবার বলেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্ষমতা হারানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

ইমরান খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। তার সমর্থকেরা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছিলেন। ফলে তাকে আদালতের নির্দেশের বাইরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নতুন করে বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content