মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ৫:৩৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। তারা ওই এলাকার বাসিন্দা।
রোববার দুপুরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ কমিশনার বলেন, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এর আগেও তারা ওই স্থানে মাদক সেবন করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেললে প্রথমে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং সর্বশেষ ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
পরে বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে তারা পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দিনগত রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫) ও তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় তাঁর নিজস্ব দোতলা বাড়ির ছাদে। তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০) ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৫) মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়ির কাছে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে গণপতি চক্রবর্তীর স্বজন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। শনিবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পরিবারের সবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে সেখান থেকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন তিনি। অবসরের পর রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন।
তাঁর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।





















