খেলাধুলা

বিশ্বকাপের পর ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী’ ১০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ

  প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৬ , ২:৩১:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর আর্জেন্টিনার ফুটবল ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই লিওনেল মেসিদের দল একাধিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান তোদো নতিসিয়াস। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ১০ জন পরিচিত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তারা।

ওই তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে মিশরের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিলেন।

এক সাক্ষাৎকারে হোসাম হাসান বলেছিলেন, ‘আমরাই ভালো দল ছিলাম, কিন্তু যা হয়েছে তা অন্যায়। আমাদের একটি পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল এবং একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। এটা কি শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি চায় মেসি খেলা চালিয়ে যাক?’

এই মন্তব্যের জেরেই তাকে তালিকার প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে অনুষ্ঠানটি।

তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণের সমালোচনা করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক।’

এর জবাবে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জোনাথান ফিয়ালি মন্তব্য করেন, ‘আমরা কি একজন ইংরেজ সাংবাদিকের মুখে এসব আজেবাজে কথা শুনছি?’

হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনের নামও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানের দাবি, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী’ ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকাল। তবে তাদের প্রত্যেকের মন্তব্য বা অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশো স্পিডও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইন ও সরাসরি বাকবিতণ্ডাকে অনুষ্ঠানটি ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তোদো নতিসিয়াসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে চলা সমালোচনার জবাব দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তবে সমালোচকদের দাবি, সাধারণ মতামত ও সমালোচনাকেই একটি সংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আরও খবর

Sponsered content