প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ , ১০:১২:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে আমেরিকা ও ইরান। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ সংক্রান্ত চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে। প্রথমে পাকিস্তান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চুক্তির ঘোষণা দেয়। পরে আমেরিকা ও ইরান উভয় দেশই বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে চুক্তিতে সম্মত হলেও আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই এত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করছে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাকিস্তানের ঘোষণার পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সমঝোতার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত বন্ধ হবে। পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় দেশ চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসবে।
কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আগামী দুই মাসের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পাশাপাশি শুক্রবারই ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে তেহরান। সেখানে ইরানের উত্থাপিত প্রাথমিক দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওই খসড়া প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ‘এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুকে বিশ্বাস করছি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা কতটা পালন করে, সেদিকে আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখব।’
প্রাথমিক চুক্তিতে কী রয়েছে?
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ও হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধও প্রত্যাহার করতে হবে।
পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লেবাননসহ সব অঞ্চলে যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অপরপক্ষ সমঝোতা স্মারকে বর্ণিত দায়বদ্ধতাগুলো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।’
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। এর আগে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকেরও আয়োজন করেছিল দেশটি, যদিও সেই আলোচনা সফল হয়নি।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে তেহরান। ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের দেশেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।’




















