আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলে আটক বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের সদস্যের যুক্তরাষ্ট্রে বিচার শুরু

  প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৬ , ১:২৮:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে প্রায় সাত বছর আগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের একাধিক অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে।

বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সোমবার টেক্সাসের লরেডো ফেডারেল কোর্টে সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে গত ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিলের পুলিশ তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ আল-মামুন বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাজিল, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি যুবকদের প্রথমে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে একটি ক্যাম্পে রাখা হতো। পরে সুবিধাজনক সময়ে তাদের বিভিন্ন দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশ অতিক্রম করে মেক্সিকোর তাপাচুলায় নেওয়া হতো। সেখান থেকে তাদের মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর মন্তেররেইয়ে পাঠানো হতো। শেষ ধাপে পাচারকারীদের সহযোগিতায় রিও গ্রান্দে নদী পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানো হতো।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার অবস্থানের তথ্য তদন্তকারীরা পান মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনের কাছ থেকে।

মানবপাচারের ওই মামলায় এরই মধ্যে মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনকে ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালত। বিচার সংশ্লিষ্ট এক কৌঁসুলি জানিয়েছেন, তারা আদালতে দোষ স্বীকার করায় তুলনামূলক কম সাজা পেয়েছেন।

বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পাঁচ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবপাচার দমনে মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন এবং ৩৬০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর সাজা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া বহু বাংলাদেশির কাছ থেকে পাচারকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সাইফুল্লাহ আল-মামুন, মোক্তার হোসেন ও মিলন হোসেনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও খবর

Sponsered content