মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৪৭:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের মাধবপুরে দোয়া ও প্রতীকী কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় আজাদী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রথমে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে একটি প্রতীকী কফিন মিছিল বের করা হয়, যা পরে বিক্ষোভ মিছিলে রূপ নেয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এতে প্রায় ৩০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, একজন প্রতিবাদী তরুণকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা দেশের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হন শহীদ শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একই দিনে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মাধবপুরের আজাদী ছাত্র-জনতার নেতা সিরাজুল ইসলাম তানিজিল বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে মাধবপুর উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে আয়োজকরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




















