সারাদেশ

জগদীশপুর-শাহজিবাজার সড়কে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবিতে ক্ষোভ

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : ২৭ মে ২০২৬ , ৯:১৪:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

“সড়কের কথা কইয়া লাভ নাই, বহুদিন ধইরা এই অবস্থা। আপনারা দুই লাইন লিখেন, নতুন সরকার যেন রাস্তা ঠিক কইরা দেয়।”

অটোরিকশার ভেতরে বসে ক্ষোভভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের মোরগ ব্যবসায়ী তাহের মিয়া। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তিনি জগদীশপুর-শাহজিবাজার সড়ক দিয়ে যাত্রা করছিলেন। তবে সড়কটির বর্তমান অবস্থা এখন যেন দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। ভাঙাচোরা রাস্তা, বড় বড় গর্ত ও জমে থাকা পানিতে চলাচল হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে আছে, আবার কোথাও ভাঙা অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে যানবাহন। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বোঝার উপায় থাকে না কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর খাদ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রায়ই ভারী যানবাহন গর্তে আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

মির্জাপুর মাছের আড়ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি কাভার্ডভ্যান গর্তে আটকে বিকল হয়ে পড়ে আছে। চালক ও স্থানীয়রা মিলে অনেক চেষ্টা করেও সহজে গাড়িটি তুলতে পারছিলেন না। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল বিরক্তি ও ক্লান্তির ছাপ।

অটোরিকশার যাত্রী রহমত আলী বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের এই বেহাল দশা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।”

শুধু মির্জাপুর নয়, জগদীশপুর বাজারের দক্ষিণ পাশ, ইটাখোলা মালেক সুপার মার্কেট এলাকা, নোয়াপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশ ও মাদাড়গড়া এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সড়কের বিভিন্ন গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।

যাত্রী আছমা আক্তার জানান, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই গাড়ি গর্তে আটকে যায়। এতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ শাহিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “সড়কটির সংস্কারের দাবি উন্নয়ন সভায় একাধিকবার তোলা হয়েছে। প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও আবেদন করা হয়েছে। মোবাইল মেইনটেন্যান্সের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ চোখে পড়েনি।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউন নবী বলেন, বিষয়টি উপসহকারী প্রকৌশলী দেখছেন। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল জানান, “সিলেট বিভাগ শক্তিশালী স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী জুলাই থেকে কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।”

আরও খবর

Sponsered content