প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৩:২২:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
নেপালে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা ও গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন দেশটির অধিকারকর্মী ও রাজনীতিকরা।
মধেশ প্রদেশে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত সপ্তাহে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে সিমারা শহরে টানা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে সপ্তাহান্তে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সরকার লিখিতভাবে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়।
সরকার জানিয়েছে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নেপালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কিছু অধিকারকর্মী ধর্ষণ বা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে এমন ঘটনা ঠেকাতে বৃহত্তর আইনগত ও সামাজিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধান। তার মতে, গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলোকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এদিকে মামলার তদন্তের শুরুতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কিশোর সন্দেহভাজনের জবানবন্দির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা একজনের ভিডিও কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০টিরও বেশি মামলার ভুক্তভোগী ছিলেন ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েশিশু।





















