আন্তর্জাতিক

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

  প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৩:০৭:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া একটি ভিডিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘Where to kill Barron Trump?!’ বা ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’। এরপর ব্যারন ট্রাম্পের চলাফেরার সঙ্গে পরিচিত বলে ধারণা করা বিভিন্ন স্থান, এর মধ্যে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের চিত্র দেখানো হয়।

ভিডিওটির শেষ দিকে বর্ণনাকারী এমন একটি বক্তব্য দেন, যাতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভিডিওটি সপ্তাহান্তে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচার করা হয়।

ইরানের কট্টরপন্থী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আইআরআইবির প্রধান সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মাধ্যমে নিয়োগ পান। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এমন ভিডিও প্রচারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং বলেন, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত। যেকোনো বিষয়, যা তাদের সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা নিয়ে তদন্ত করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সুরক্ষা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় না বলেও জানান তিনি।

মার্কিন এক ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যারনকে ঘিরে ভিডিওটি ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক হুমকিমূলক ভিডিওর অংশ। এসব ভিডিওতে কখনো কখনো ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের চলাফেরার তথ্য এবং তাদের হত্যার বিভিন্ন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সিক্রেট সার্ভিসসহ বিভিন্ন মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন ও জোরদার করা হয় বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ব্যারন ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের কট্টরপন্থী গণমাধ্যমে বিভিন্ন হুমকি প্রচারিত হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প নিজেও তার বিরুদ্ধে ইরানের হুমকির কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি ইরানের হুমকির তালিকায় রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ভাগ্য তার পক্ষে থাকলেও পরিস্থিতি সবসময় এমন নাও থাকতে পারে।

এমনই এক ইরানি হামলার আশঙ্কায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্দিষ্ট বিমানের পরিবর্তে একটি সাধারণ বিমানে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর ট্রাম্প ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি আরও বেড়েছে। খামেনির শেষকৃত্য ঘিরে কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনে ইরান সরকারের সমর্থকদের হাতে ‘Kill Trump’ লেখা পোস্টার দেখা যায় এবং খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণার ঘটনাও ঘটে।

ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সর্বশেষ ভিডিও তাই মার্কিন নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভিডিওটির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সিক্রেট সার্ভিস।

আরও খবর

Sponsered content