আন্তর্জাতিক

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া চিকিৎসা কতটা নিরাপদ?

  প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ , ১:০০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিসের মতোই থাইরয়েড সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ছোট-বড় নির্বিশেষে অনেকেই এই হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। থাইরক্সিন হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে শরীরে ক্লান্তি, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, এমনকি ঋতুচক্রে অনিয়মসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তবে থাইরয়েড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্যের কারণে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু দাবি অনুযায়ী, শুধু ডায়েট, ভেষজ পানীয় বা যোগব্যায়াম করলেই থাইরয়েড সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধারণা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক নয়।

কী বলছেন চিকিৎসকরা?

মুম্বাইয়ের চিকিৎসক নীমিত নাগড়ার মতে, থাইরয়েডজনিত সমস্যা সাধারণত নিজে থেকে সারে না। হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হয়। চিকিৎসায় অবহেলা করলে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টোটকা বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাইরয়েড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। এসব পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু বিকল্প চিকিৎসা নয়।

ডায়েট ও জীবনযাত্রার ভূমিকা

চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাত্রা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে এটি মূল চিকিৎসার পরিপূরক, বিকল্প নয়।

অনেক সময় নিয়মিত ব্যায়াম ও ডায়েট মেনে চললে হরমোনের মাত্রা সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু তা স্থায়ী সমাধান নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচলিত ডিটক্স পানীয়, ভেষজ সাপ্লিমেন্ট বা টোটকা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ভুল পদক্ষেপে শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে।

সব ক্ষেত্রে কি ওষুধ প্রয়োজন?

সব রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডের মাত্রা নিজে থেকেই স্বাভাবিক হতে পারে—

যেমন গর্ভাবস্থার পর হরমোনের ওঠানামা অনেক সময় স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা থাইরয়েড গ্রন্থির সাময়িক প্রদাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টিএসএইচ (TSH) মাত্রা: টিএসএইচ-এর মাত্রা খুব সামান্য বাড়লে এবং শরীরে কোনো উপসর্গ না থাকলে, দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ ছাড়াই কেবল জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

থাইরয়েড এমন একটি সমস্যা, যা অবহেলা করা উচিত নয়। ঘরোয়া টোটকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ভারসাম্যই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি।

আরও খবর

Sponsered content