প্রতিনিধি ৩১ জুলাই ২০২৬ , ৮:৪৮:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট—কোনো কিছুই দমাতে পারছে না খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অদম্য আগ্রহকে। এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্প্রতি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে ‘এলিভেটিং সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’। ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেডের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সহযোগিতায় খাগড়াছড়ির সাতটি বিদ্যালয় ও শিক্ষাকেন্দ্রের মোট ৩৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে চক ও স্লেট তুলে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। ESSD-এর পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট, প্রোগ্রামস ও ফাইন্যান্স) শাদমান বিন সামাদ এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহান সরাসরি এই কার্যক্রমে অংশ নেন। কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ি সদরের উত্তর গঞ্জপাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৮৩ জন ও রবিধন পাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৭৩ জন, মাটিরাঙ্গার দলদলি আশা হফনং নন-গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের ৯২ জন ও আদর্শগ্রাম আনোয়ারা বেগম তা’লিমুল কোরআন মাদ্রাসার ৯৯ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা উপকরণ পেয়েছে। এছাড়া পানছড়ির পূর্ব ডমডমপাড়া কেন্দ্র, ডমডমপাড়া কেন্দ্র ও সাঁওতালপাড়া কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরাও এই সহায়তার আওতায় এসেছে।
মাঠপর্যায়ে গিয়ে কাজ করতে গিয়ে আয়োজক দলটি পাহাড়ি এলাকার কঠোর বাস্তবতার চিত্র দেখতে পায়। সরু পাহাড়ি কাঁচা রাস্তা পার হয়ে কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে কোথাও পাহাড়ি জিপ বা চাঁদের গাড়ি, আবার কোথাও মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়েছে। এমনকি রবিধন পাড়ার মতো কিছু বিদ্যালয় নিকটবর্তী বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাতায়াতের পাশাপাশি খাবার পানির সংকটও সেখানকার একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে পরিবারগুলোকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে ৭ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এবং বর্ষায় পথঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া এসব শিশুর পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ESSD।





















