ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:২৪:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজন। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ইয়াছিন (২২) দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোরে মারা গেছেন।
নিহত ইয়াছিন নবীনগর পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তার ভাই শাহীন মিয়া জানান, ভোররাতেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয় এবং পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নবীনগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এর আগে একই ঘটনায় নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নবীনগরের বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ মাজারসংলগ্ন একটি হোটেলে শিপন মিয়া আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হঠাৎ হোটেলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে শিপন মিয়া, হোটেলকর্মী ইয়াছিন এবং নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।
গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। পরে শিপনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তালতলায় হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় শিক্ষক এমরান হোসেন মাস্টারের (৩৮) অফিসে গুলি করা হয় এবং পরবর্তীতে থোল্লাকান্দি গ্রামে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এমরান হোসেন মাস্টার ঢাকায় কর্মরত পুলিশ উপকমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই এবং শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুখ্যাত মনেক ডাকাত ও তার ছেলে শিপন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। সম্প্রতি অবৈধ অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে শিপনের সঙ্গে থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাতের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে রিফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র দল শিপনের ওপর হামলা চালায়। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম বলেন, “শিপনকে গুলি করে রিফাত, যিনি এমরান মাস্টারের আত্মীয়। এরপর শিপনের অনুসারীরা ভুল করে ধরে নেয় এমরান ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাই তারা প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তার অফিসে গুলি চালায়।”
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




















