সারাদেশ

রেকর্ড বৃষ্টিতে রংপুর নগরী পানির নিচে, পানিবন্দি প্রায় ১৫ হাজার পরিবার

  মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ২২ মে ২০২৬ , ২:১২:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রংপুর নগরী। শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে নগরীর অন্তত ৪০টি পাড়া-মহল্লা তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টার পর বৃষ্টি কিছুটা কমলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর লালবাগ, ধাপ, নিউ জুম্মাপাড়া, কুকরুল, মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখা পশ্চিম, বাবুখা উত্তর, গণেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠানপাড়া, ইসলামপুর ও মুন্সিপাড়াসহ প্রায় ৪০টি মহল্লা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

এ ছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসসহ নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দেড় থেকে দুই ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। অব্যাহত বৃষ্টিতে রংপুর আবহাওয়া অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়ে।

মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন,“জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না থাকায় পানি নামছে না। এভাবে চলতে থাকলে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় গিয়ে থাকতে হবে।”

এক মুদি দোকান ব্যবসায়ী জানান, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে কয়েক হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন,“ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। শ্যামাসুন্দরী খালে পানি যাওয়ার পথও কার্যত বন্ধ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের ফল এখন নগরবাসীকে ভোগ করতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, রংপুর নগরীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত শ্যামাসুন্দরী খাল বর্জ্য ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি উপচে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে খালের দুই পাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত আরও ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ-উন-নবী ডনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও খবর

Sponsered content