মোঃ রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া ৯ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:২৭:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
এক সময়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের ছন বা কাশফুলের গাছ এখন স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্ষার শেষে শুভ্র কাশফুল ফোটার পর এই গাছগুলো পরিণত হয় এক লাভজনক ‘বিনা চাষের ফসলে’, যা দেশের দূরদূরান্তের পানের বরজ তৈরির মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এই প্রাকৃতিক সম্পদ এখন কোটি টাকার শ্রমনির্ভর বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।
যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়া ও জেগে ওঠা বিশাল চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে প্রচুর ছনগাছ। শরৎকালে যখন কাশফুলে সাদা শুভ্রতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও, ফুল ঝরে যাওয়ার পর শুরু হয় এই গাছের আসল অর্থনৈতিক যাত্রা।
জানা গেছে, ছনের উপরিভাগ—যা ছনপাতা নামে পরিচিত—ঢাকা, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পানের বরজ তৈরির অপরিহার্য উপকরণ। এটি বরজের ভেতরে পান গাছের জন্য ছায়া ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জমির মালিকদের কাছ থেকে পুরো চরের ছন নির্দিষ্ট দামে কিনে এনে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর মানভেদে প্রতি হাজার আঁটি ছন ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
ছন ব্যবসায়ী বাবলু প্রামানিক বলেন,“জমির মালিকের কাছ থেকে চরের ছন কিনে কর্তন, আঁটি বাঁধা এবং ট্রাকে তোলার জন্য অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে অনেক পরিবার এখন জীবিকা নির্বাহ করছে।”
সারিয়াকান্দির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান,“এই ছনগাছ যুগ যুগ ধরে চরাঞ্চলের গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন কৃষকরা পরিপক্ব ছন বিক্রি করে ভালো আয় করছেন। প্রকৃতির এই দান তাদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙনকবলিত এই অঞ্চলে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকি বেশি। সেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই ছন একদিকে ভূমি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই আয়ের পথ উন্মুক্ত করছে।














