সারাদেশ

বিজয়নগরে ভিজিএফ-ভিডাব্লিউবির পঁচা ও নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ

  শাহনেওয়াজ শাহ, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ২২ মে ২০২৬ , ১১:০৬:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ ও ভিডাব্লিউবি সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দুর্গন্ধযুক্ত, পঁচা ও নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিতরণকৃত চালের গুণগত মান যাচাই করে দ্রুত পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় সূত্র ও সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণের জন্য সরবরাহ করা চালের বস্তা খুলে অনেকেই দুর্গন্ধ, লালচে রঙ, পোকা ও জমাট বাঁধা চাল দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, এসব চাল দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে এসব চাল বিতরণ করা হয়েছে। আবার কয়েকটি ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম এখনো বাকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, চালের মান এতটাই নিম্ন যে তা রান্না ও খাওয়ার উপযোগী নয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, “এমন পঁচা ও নিম্নমানের চাল দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালো ছিল। এসব চাল খেলে উপকারের পরিবর্তে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।”

অভিযোগ রয়েছে, চালের বস্তায় জমাট বাঁধা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল দেখে অনেকেই তা গ্রহণ না করেই ফিরে গেছেন। কেউ কেউ চাল পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “চম্পকনগর ইউনিয়নে যে চাল দেওয়া হচ্ছে, তা খাওয়ার উপযোগী নয়। প্রতিটি বস্তায় পোকা ও নষ্ট চাল রয়েছে। এ ধরনের চাল মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হবে।”

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, “এই মাসে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির জন্য যে চাল এসেছে, তার গুণগত মান ভালো নয়। সরকার যেভাবে সরবরাহ করে, আমরা সেভাবেই বিতরণ করি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।”

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার বলেন, “এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাদের সতর্ক করা হয়েছে। যেসব ইউনিয়নে এখনো চাল বিতরণ হয়নি, তারা চাইলে খাদ্যগুদামে গিয়ে চাল পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করতে পারবেন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content