ধর্ম

ঋণ থাকলে কি কোরবানি হবে? ইসলাম কী বলছে

  প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ , ১:০৭:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহা সামনে এলেই অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে ঋণ থাকলে কি কোরবানি দেওয়া যাবে, নাকি আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হয় সেই ব্যক্তির ওপর, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। তবে কারও ওপর যদি এমন ঋণ থাকে, যা পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। এ অবস্থায় কোরবানি করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করাই উত্তম। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২৯২)

ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোতে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের পরও যদি কারও কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থেকে যায়, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। আর তখন কোরবানি না করা গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আলেমরা আরও বলেন, ঋণ থাকা অবস্থায় কেউ কোরবানি করলে সেই কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। কারণ ঋণ পরিশোধ ও কোরবানি দুটি আলাদা বিধান। একটির কারণে অন্যটি বাতিল হয় না। তবে শুধুমাত্র নফল কোরবানির জন্য ঋণ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারও ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার পর যদি হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকে, তাহলে প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও কোরবানি আদায় করতে হবে। পরে সেই ঋণ পরিশোধ করে দিতে হবে। যদি কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায় এবং কোরবানি আদায় না করা হয়, তাহলে একটি মাঝারি মানের ছাগলের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করার কথা উল্লেখ রয়েছে ফিকহের কিতাবে।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

নিসাবের পরিমাণ নির্ধারণে স্বর্ণ ও রুপার হিসাব ধরা হয়। স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি নিসাব হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বা বাড়ির মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে। টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, প্রয়োজনাতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও প্রয়োজনাতিরিক্ত অন্য আসবাবপত্রের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (মাবসুতে সারাখসি: ১২/৮, রদ্দুল মুহতার: ৬/৬৫)

ওয়াজিব কোরবানি না করা কঠিন গুনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.) তাদের অভিসম্পাত করেছেন। নবীজি বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়। (মুসনাদ আহমদ: ৮২৭৩; ইবনে মাজাহ: ৩১২৩; হাকেম: ৭৫৬৫-৭৫৬৬)

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানি আদায়ের আগে নিজের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের অবস্থা এবং পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আরও খবর

Sponsered content