প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১১:০০:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
হালাল রিজিক শুধু অর্থ-সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সুস্বাস্থ্য, মানসিক প্রশান্তি, সুখ ও সন্তুষ্টিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে বলা হয়েছে, নামাজ, ইস্তিগফার, সদকা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে রিজিকে বরকত আসে। আর দোয়া হলো আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-
اِنَّ اللّٰهَ یَرۡزُقُ مَنۡ یَّشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বেহিসাব রিজিক দান করেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৩৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-
وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ رِزۡقُهَا وَ یَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّهَا وَ مُسۡتَوۡدَعَهَا ؕ كُلٌّ فِیۡ كِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ
‘যমীনে বিচরণশীল এমন কোন জীব নেই যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই, তিনি জানেন তাদের থাকার জায়গা কোথায় আর কোথায় তাদেরকে (মৃত্যুর পর) রাখা হয়, সব কিছুই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।’ (সুরা হুদ: আয়াত ৬)
ইসলামে রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হয়। কেউ ধনসম্পদে পরীক্ষা হন, আবার কেউ অভাবের মধ্য দিয়ে। তাই উত্তম ও হালাল রিজিকের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।
নবিজি (সা.) আল্লাহর কাছে হালাল বা উত্তম রিজিক প্রার্থনা করতেন। নবিজির (সা.) থেকে এ রকম বহু দোয়া বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে তিনি দারিদ্র্য থেকে আল্লাহ তাআলার আশ্রয় চেয়েছেন এবং হালাল ও উত্তম রিজিক প্রার্থনা করেছেন। নবিজিকে (সা.) অনুসরণ করে আমাদেরও উত্তম রিজিকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
এখানে নবিজি (সা.) থেকে বর্ণিত রিজিক বৃদ্ধির দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো—
১. হালাল রিজিক ও মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তির দোয়া
اَللّهُمَّ اكْفِنِى بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَاغْنِنِى بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুমমাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়াগনিনী বিফাদ্বলিকা আম্মান সিওয়াকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রিজিক আমার জন্য যথেষ্ট করুন। আপনি ছাড়া অন্য সবার অমুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্তি দিন।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন ‘মুকাতিব’ (লিখিত চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কৃতদাস) তার কাছে গিয়ে নিবেদন করলো, আমি আমার নির্ধারিত অর্থ দিতে অপারগ, অতএব আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তিনি তাকে এ দোয়াটি শিখিয়ে দিয়ে বললেন, এ দোয়াটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে শিখিয়েছিলেন। যদি তোমার ওপর পর্বত সমপরিমাণ ঋণও থাকে, এই দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা তোমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন। (সুনানে তিরমিজি: তিরমিযী ৩৫৬৩)
২. রিজিকে বরকত ও প্রশস্ততার দোয়া
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسِّعْ لِي فِي رِزْقِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লী জাম্বী, ওয়া ওয়াসসী লী ফী রিজকী ওয়া বারিকলী ফীমা রাজাকতানী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন, আমার রিজিকে প্রশস্ততা দান করুন এবং আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি রাতে নবিজিকে এ দোয়াটি পড়তে শুনেছেন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫০০)




















