প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১:০২:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে অবস্থিত ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক সহিংসতার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর বয়স ছিল ২০- এর নিচে। তাদের একজনকে ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
বন্দুকধারীদের একজন বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং তার অস্ত্রে জাতিগত অহংকার ও হিংসাত্বক বক্তব্য ছিল। তবে সেখানে আলাদাভাবে ওই ইসলামিক সেন্টার নিয়ে কোনো বক্তব্য ছিল না।
আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের একজনের বয়স ১৭ বছর, আরেকজনের ১৯। দুজনই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে বলেন, ১৭ বছর বয়সী আততায়ীর মা আগেই পুলিশের কাছে তার ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তাদের গাড়ি ও কয়েকটি অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।
পুলিশপ্রধান জানায়, বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা দেখে প্রাথমিক তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন ওই কিশোর অন্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কারণ আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটি অস্ত্র নেবে না।
মায়ের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া এবং ‘বড় পরিসরে’ হুমকির বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশ ওই ‘নিখোঁজ কিশোর’কে খুঁজছিল বলেও জানান সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান।
স্কট ওয়াহল বলেন, ‘ওই মা পরে তার ছেলের রেখে যাওয়া একটি “চিরকুট” (সুইসাইড নোট) খুঁজে পাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।’
তবে পুলিশপ্রধান স্কট বলেন, ‘চিরকুটে কী লেখা রয়েছে, তা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।’
সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর বিস্তারিত পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। এমনকি সহিংসতায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।
স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীদের পরিবারকে জানিয়েছি। এখনই তাঁদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।’
ইসলামিক সেন্টারটির বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের সবাই এ ঘটনায় অক্ষত আছে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সান ডিয়েগো কাউন্টির ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত ওই ইসলামিক সেন্টারে এ এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদ ছাড়াও সেন্টারে রয়েছে শিশুদের ইসলামি বিদ্যালয়।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার জোহরের নামাজের আগে সহিংসতার এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই সেন্টারের নিরাপত্তাপ্রহরীসহ তিনজন নিহত হন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্বেষমূলক অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।




















