আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার

  প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ , ১১:২৪:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

পুলিশ বাড়ির ভেতর থেকে অভিযুক্তের স্ত্রী এবং দুই ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতাজনিত তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখতে গণমাধ্যমে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন বুদ্ধি বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত তার দুই সন্তানের পূর্ণকালীন দেখভালকারী এবং তার স্ত্রী চাকরি করতেন। প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত সহিংস অপরাধস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির ভেতর থেকে এমন কিছু আলামত পাওয়া গেছে যা হামলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।’

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সামাজিক সেবা বিভাগ বা বিচার বিভাগেরও পূর্ব কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে, হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল না।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দুই শিশুকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত এবং তারা ছিল খুবই হাসিখুশি।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস এই ঘটনাকে ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক সহিংসতা রোধে সরকার আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করছে।’

উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পরিচালিত ‘অপারেশন আমারোক’-এ পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

আরও খবর

Sponsered content